ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন কোর্স (ডিপিএড) করেও মাসিক ভাতা পাচ্ছেন না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত ছয় মাস ধরে এ ভাতা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে নতুনভাবে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে শিক্ষকদের মাঝে।জানা গেছে, একজন সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষককে দেড় বছরে ডিপিএড কোর্সটি করা বাধ্যতামূলক। প্রতি মাসে সরকার থেকে প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে তিন হাজার করে টাকা দেয় সরকার।

তবে এখনো ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী অনেক শিক্ষক ছয় মাসের ভাতার টাকা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন কি এ টাকা পাবেন কি-না তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যে কারণে প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক কিট এলাউন্স বাবদ ১৮ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা পেয়ে থাকে। ছয় মাস অন্তর এ টাকা তাদেরকে দেয়া হয়। কিন্তু অনলাইনে এবার কোর্স নেয়ায় অনেক শিক্ষককে এ টাকা এখনো দেয়া হয়নি।

ফারজানা আক্তার নামে এক প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক বলেন, ডিসেম্বরে প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এপ্রিলেও এখনো পাইনি। আমাদের কোর্স বাকি আর মাত্র দু’মাস। এ বিষয়ে উপরমহল থেকেও আমাদেরকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতনদের উচিত, আমাদেরকে ধোঁয়াশায় না রেখে প্রাপ্য অর্থ দেয়া।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড কোর্স শুরু হয়ে প্রায় শেষের পথে। শিক্ষাবর্ষের সরাসরি কার্যক্রম চলেছে গত বছরের ১৬ মার্চ পর্যন্ত। করেনাভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ হয় এবং ১ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে ডিপিএড কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

প্রশিক্ষণার্থীদের মাধ্যমে জানা যায়, কেউ কেউ তিন মাসের প্রশিক্ষণ ভাতা পেয়েছেন। অথচ ডিসেম্বর ২০২০ পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী ভাতার খোঁজ নেই।এ বিষয়ে বাংলাদেশ সহকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন বলেন, অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ভাতা ঠিকঠাক পাননি। অথচ এটি শিক্ষকদের ন্যায্য টাকা। এ বিষয়ে আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদেরকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) পরিচালক মো. ইউসুফ আলী বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রশিক্ষণ সামনাসামনি হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে এমন যুক্তি দেখানো হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ অনলাইনে চলেছে। সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতাটি প্রাপ্য। এখন বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে।জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে পরে আপনাকে জানাবো। কিন্তু এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।